ইপেপার / প্রিন্ট
অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে ধার নেওয়া একটি বই অবশেষে ফিরে এসেছে। বাড়ি সংস্কারের সময় বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ভেতরে ইটের গাঁথুনির আড়ালে রাখা একটি চায়ের বাক্স থেকে বইটি খুঁজে পান স্থানীয় এক বাসিন্দা। পরে গত সপ্তাহে তিনি বইটি কিয়ামা লাইব্রেরিতে ফেরত দেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স নামের বইটি দীর্ঘ প্রায় দেড় শতাব্দী পর কিয়ামা শহরের লাইব্রেরিতে ফিরে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠার শুরুর কয়েক বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে গিয়েছিল।
কিয়ামা লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন জানান, তৎকালীন নিয়ম এবং বইটির মলাটের ভেতরে উল্লেখ থাকা ব্রিটিশ সাপ্তাহিক তিন পেন্স বিলম্ব ফি বিবেচনায় নিয়ে জরিমানা হিসাব করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ধরলে সেই জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ দশমিক ৭ লাখ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা।
হাডসন বলেন, এত পুরোনো কোনো বই এর আগে তাদের লাইব্রেরিতে ফেরত আসেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি যেসব লাইব্রেরিকে অনুসরণ করেন, সেখানে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর দেরিতে বই ফেরত দেওয়ার ঘটনা দেখা যায়। এসব বই প্রায়ই পুরোনো বাড়ি বা সম্পত্তি পরিষ্কার করার সময় উদ্ধার হয়।
তবে বইটির সর্বশেষ গ্রহীতা কে ছিলেন, তা আর জানা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, লাইব্রেরির ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার দিনলিপি হারিয়ে গেছে। ওই দিনলিপিতে কোন ব্যক্তি কখন কোন বই ধার নিয়েছিলেন, তার তথ্য সংরক্ষিত থাকত। বইটির ভেতরেও সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সে সময় লাইব্রেরির নিয়ম ছিল বেশ কঠোর। নতুন করে বই ধার করতে হলে আগের বই ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি সব বকেয়া পরিশোধ করতে হতো। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার করতে পারত। তবে শর্ত ছিল, ওই পরিবারের অন্তত ছয়জন পড়তে সক্ষম সদস্য থাকতে হবে। এমনকি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাউকে বই ধার দেওয়ার অনুমতিও ছিল না।
এ প্রসঙ্গে হাডসন মজা করে বলেন, ‘হয়তো এ কারণেই তারা বইটি আমাদের ফেরত দেয়নি।’
দীর্ঘ কয়েক দশক ফায়ারপ্লেসের কাছে পড়ে থাকার কারণে বইটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন এটি আর সাধারণ পাঠকদের জন্য ধার দেওয়া হবে না। বইটি কিয়ামা লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহের অংশ হিসেবে প্রদর্শন করা হবে।
হাডসন বলেন, ‘আমরা এটিকে আর বাইরে যেতে দেব না। এই বইটি ফেরত আসার জন্য আমরা আরও ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’