ইপেপার / প্রিন্ট
ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার জেরসিস ওয়াদিয়ার সামনে এবার নতুন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিনিধি দলের হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তবে তার চোখ শুধু এই ম্যাচে নয়—তার ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য’ অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে খেলা।
ভারতে জন্ম নেওয়া জেরসিস ওয়াদিয়ার ক্রিকেটযাত্রা অন্যদের চেয়ে বেশ আলাদা। তার বাবা দিলজান একজন বলিউড অভিনেতা এবং দাদা নেভিল মাইনর ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি করার গিনেস বিশ্ব রেকর্ডধারী। ছোটবেলায় দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। দাদার অনুপ্রেরণাতেই ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসা তৈরি হয়।
ভারতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে এগিয়ে যাওয়ার পথে কোভিড মহামারির কারণে বড় ধাক্কা খান ওয়াদিয়া। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সুযোগ হারানোর পর জুনিয়র রাজ্য ক্রিকেটও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পেশাদার ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে পাড়ি জমান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন ওয়াদিয়া। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় চার মৌসুম প্রিমিয়ার ক্রিকেট খেলার পর অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমির হয়ে নজর কাড়েন। এরপর গত ডিসেম্বরে বিগ ব্যাশ লিগে অভিষেক হয় তার। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে প্রথম তিন বলেই তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন তিনি।
ভারতীয় ক্রিকেটার হার্দিক ও ক্রুনাল পান্ডিয়ার সঙ্গেও তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তাদের সঙ্গে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা রয়েছে ওয়াদিয়ার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার নিখিল চৌধুরীর অভিষেকও তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
ওয়াদিয়া বলেন, নিখিলকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে দেখে তার নিজেরও বিশ্বাস বেড়েছে যে কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন তিনিও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলতে পারবেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচকে সামনে রেখে ওয়াদিয়া জানেন, এখন প্রতিপক্ষরা তার সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি জানে। তাই তাকে নতুনভাবে পরিকল্পনা করে মাঠে নামতে হবে।
তবে তার স্বপ্ন আরও বড়। ওয়াদিয়ার অন্যতম লক্ষ্য বিগ ব্যাশের শিরোপা জেতা এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, অর্থাৎ শেফিল্ড শিল্ডে জায়গা করে নেওয়া। আর তার ক্যারিয়ারের ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য’—অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই জেরসিস ওয়াদিয়ার জন্য শুধু আরেকটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়; বরং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার দীর্ঘ পথের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।