ইপেপার / প্রিন্ট
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প তেল রপ্তানি পথ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইরাক।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইরাক। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দীর্ঘদিন অচল থাকা ইরাক-সিরিয়া অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন পুনরুদ্ধার প্রকল্প।
ওয়াশিংটনে ইউএস চেম্বার অব কমার্সে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই পাইপলাইন চালু হলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার ছাড়াই ইরাক ভূমধ্যসাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করতে পারবে।
চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর ইরাকের তেলসমৃদ্ধ কিরকুক অঞ্চল থেকে সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে সংযোগকারী পাইপলাইনটি পুনর্নির্মাণ করবে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি শেভরন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেবে।
পুনর্বাসনের পর এই পাইপলাইন দিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, নতুন এই জ্বালানি করিডোর চালু হলে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে।
শেভরনের কর্পোরেট ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেক স্পিয়ারিং জানান, সিরিয়া পাইপলাইন প্রকল্প ছাড়াও ইরাকে তেল উৎপাদন বাড়াতে আরও দুটি চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া ইরাক সরকার ইলন মাস্কের স্টারলিংক সেবা চালুর জন্যও আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইরাকের স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিগুলোর মোট মূল্য ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, দেশটি উন্মুক্ত বিনিয়োগ নীতি অনুসরণ করছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।