ইপেপার / প্রিন্ট
সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাগুলোকে একটি সমন্বিত বা একক (ইউনিফাইড) পদ্ধতিতে আয়োজনের বিষয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাগুলো কীভাবে সমন্বিতভাবে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরুর আগেই জানানো হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো ভর্তি পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে আরও সংগঠিত করা, যাতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমে এবং সেশনজটের সমস্যা হ্রাস পায়। তিনি বলেন, “নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। ফল প্রকাশের পরই পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা জানানো হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, আগামী ২ জুলাই থেকে সারাদেশে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হবে। এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি, এবং ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সব পরীক্ষায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস, গুজব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, খাতা মূল্যায়নে বাড়তি প্রশিক্ষণ এবং পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি বাজারে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে নতুন কারিকুলাম ২০২৮ সাল থেকে পুরোপুরি চালু হবে।
সব মিলিয়ে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষার প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ, সমন্বয় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিকে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।