ইপেপার / প্রিন্ট
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে রেকর্ড ব্যবসায়িক সাফল্যের মধ্য দিয়ে। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে ১০৪ ম্যাচের এই আসর থেকে ফিফার আয় হয়েছে রেকর্ড ১ হাজার ৫২০ কোটি ডলার।
চোখধাঁধানো স্টেডিয়াম, নতুন ফরম্যাট, টানটান উত্তেজনার অসংখ্য ম্যাচের পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ছিল নানা বিতর্ক। রাজনৈতিক টানাপোড়েন, রেফারিং নিয়ে সমালোচনা কিংবা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক—কোনোটিই বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া বিপুল আয়ের একটি বড় অংশ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের কাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থাৎ তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত উন্নয়নে এই অর্থ পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।
আয়ের দিক থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় ছিল প্রায় ৭৬০ কোটি ডলার। ফলে মাত্র চার বছরের ব্যবধানে আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ৫৫০ কোটি, ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে ৪৭০ কোটি এবং ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার আয় করেছিল ফিফা।
বিশ্বকাপের সম্প্রসারণই আয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪টি। ফলে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব—সব ক্ষেত্রেই ফিফার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্বকাপের আয় বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজার ও বিনোদন শিল্পের কেন্দ্র হওয়ায় দেশটিতে বিশ্বকাপ ঘিরে বাণিজ্যিক আগ্রহ ছিল ব্যাপক। এমনকি ফাইনালের সাধারণ আসনের টিকিটের দাম প্রায় ১১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত উঠলেও দর্শকদের আগ্রহে বড় ধরনের ভাটা দেখা যায়নি।
সব মিলিয়ে মাঠের রোমাঞ্চ ও বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপ ফিফার জন্য পরিণত হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক ফুটবল বিশ্বকাপগুলোর একটিতে।