ইপেপার / প্রিন্ট
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভে তরুণদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশটির প্রবীণ নাগরিকরা। আন্দোলনকারীদের ওপর সম্ভাব্য চাপ ও গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে তারা বিক্ষোভস্থলে নিয়ে আসছেন খাবার ও পানি।
গত সোমবার তরুণ বিক্ষোভকারীরা জন্তর মন্তর থেকে পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল বের করলে তাদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন বয়োজ্যেষ্ঠরা। কেউ নিয়ে আসেন বিরিয়ানি, কেউ বার্গার। আবার কেউ বিক্ষোভকারীদের হাতে তুলে দেন রুটি ও সবজি। একই সঙ্গে অনেকেই পানির বোতল বিতরণ করেন আন্দোলনকারীদের মধ্যে।
পাঞ্জাবের ৫৬ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক গুরিন্দর সিং বিক্ষোভস্থলে আন্দোলনকারীদের রুটি ও সবজি বিতরণ করেন। তিনি বলেন, ‘তারা আমার সন্তানের মতো। আমরা এখানে এসেছি এটি নিশ্চিত করতে যে তারা যেন অসুস্থ হয়ে না পড়ে। সামনে অনেক পথ বাকি।’
এর আগে ওই দিন সকালে এক নারী প্যাকেটভর্তি বার্গার ও ফ্লাস্কে করে চা নিয়ে বিক্ষোভস্থলে হাজির হন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন তিনি।
এক বিক্ষোভকারী সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে জানান, আগের রাতে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় তারা খাবার অর্ডার করতে পারেননি। তার ওপর হামলার আশঙ্কায় অনেকে বিক্ষোভস্থল ছেড়ে বাইরে যেতেও ভয় পাচ্ছিলেন। তবে পরদিন সকাল থেকেই অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসতে শুরু করেন।
শুধু খাবার নয়, বিক্ষোভকারীদের জন্য পানির ব্যবস্থাও করেন প্রবীণরা। কার্টনভর্তি পানির বোতল নিয়ে তারা জন্তর মন্তরের আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়া তরুণদের হাতে পানি তুলে দেন।
ঋতু নামে এক নারী বলেন, অনেক তরুণ এই বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় তাদের সুস্থ থাকা জরুরি। তাই আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান এই আন্দোলনের রাজনৈতিক দাবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিক্ষোভস্থলে তরুণদের জন্য প্রবীণদের এমন মানবিক উদ্যোগ সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।