ইপেপার / প্রিন্ট
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও একটি মৃত ইরাবতী (Irrawaddy) প্রজাতির ডলফিন ভেসে এসেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে জোয়ারের পানিতে জাতীয় উদ্যান-সংলগ্ন সৈকত এলাকায় প্রায় ৮ ফুট দৈর্ঘ্যের ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে তিন থেকে চার দিন আগে।
খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), বন বিভাগ এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কে. এম. বাচ্চু বলেন, আগের তুলনায় ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা কিছুটা কমলেও এখনও নিয়মিত মৃত ডলফিন ভেসে আসছে। এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তার ভাষায়, “ডলফিন রক্ষা মানেই উপকূলীয় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, মৃত প্রাণীটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris)। শরীরে থাকা রক্তাক্ত ক্ষতের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযানের ধাক্কা, মাছ ধরার জাল অথবা অন্যান্য মৎস্য আহরণ সরঞ্জামের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণীটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক, তেল দূষণ এবং নদী-মোহনার পরিবেশগত অবক্ষয়ও এ প্রজাতির জন্য বড় হুমকি। ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলজুড়ে ডলফিন সংরক্ষণে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা কে. এম. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে যথাযথভাবে মাটি চাপা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, কুয়াকাটা উপকূলে এর আগেও একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছে। পরিবেশবিদদের মতে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উপকূলীয় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।