ইপেপার / প্রিন্ট
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, পুলিশের কার্যক্রমের সাফল্য পরিমাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো নাগরিক সন্তুষ্টি। সাধারণ মানুষ পুলিশের সেবা ও আচরণে সন্তুষ্ট হলেই বোঝা যাবে পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে। জনগণের আস্থা অর্জন করে সিএমপি একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী হিসেবে কাজ করতে চায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিএমপি কমিশনার।
হাসান মো. শওকত আলী বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কার্যকর পুলিশিংয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ। পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তত বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
পুলিশের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ আলাদা—এমন ধারণা শুধু পুলিশ সদস্যদের মনে থাকলেই হবে না; বরং সাধারণ মানুষকে পুলিশের কাজ ও আচরণের মাধ্যমে সেই পার্থক্য অনুভব করতে হবে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হতে হবে আস্থা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।
জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশ ও জনগণের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা নিপীড়ক পুলিশ হতে চাই না। সিএমপির পক্ষ থেকে বলতে চাই, আমরা জনগণের পুলিশ হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা হলে সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনের সুযোগ হিসেবে নিতে হবে।
সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে সিএমপি কমিশনার বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। পুলিশের কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা উচিত। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অনুধাবন করে পুলিশের কার্যক্রম আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জনগণের সেবায় নিয়োজিত এই দুই পেশার মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরও কার্যকরভাবে পূরণ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, জুলাই মাসে দীর্ঘ সময়ের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ ও সাংবাদিকরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।