ইপেপার / প্রিন্ট
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাজদাল সেলম গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে ৪৪ জনের গণদাফন সম্পন্ন করেছে হিজবুল্লাহ। শনিবার অনুষ্ঠিত এ দাফন অনুষ্ঠানে শত শত মানুষ অংশ নেন।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে নিহত এসব ব্যক্তির মধ্যে ৩৯ জন তাদের যোদ্ধা এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া একজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে ইসরায়েলি হামলায় সংঘাতে তাদের মোট কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, সে সংখ্যা প্রকাশ করেনি ইরান-সমর্থিত লেবাননের এই শিয়া গোষ্ঠী।
গত ২ মার্চ ইসরায়েলে হামলার পর লেবাননকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার পর চলমান লড়াইয়ে সাময়িক বিরতি চলাকালে কয়েক দফায় নিহতদের দাফনের আয়োজন করে হিজবুল্লাহ।
মাজদাল সেলম গ্রামটি ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে অনেক পরিবার তাদের নিহত স্বজনদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন করতে পারেনি। শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে বা ইচ্ছানুযায়ী স্থানে দাফন সম্ভব না হলে সাময়িক দাফনের সুযোগ রয়েছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে নিহতদের নাম উল্লেখ করে সমর্থকদের মাজদাল সেলমের ‘শহীদদের’ জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
এদিকে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি তালিকায় ১২৯ জন নিহতের নাম দাবি করা হলেও মাজদাল সেলম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তা ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
দাফন অনুষ্ঠানের সময় লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্র সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সেখানে তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার পর স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিল থেকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়। আলোচনার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছে। তবে এর অন্যতম শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি সামনে এসেছে, যা হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।