ইপেপার / প্রিন্ট
টানা ভারী বৃষ্টিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফার এই জলাবদ্ধতায় শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদনও।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে কালিয়াকৈর পৌরসভার হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া, পল্লীবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আট শতাধিক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, মসজিদ ও মাদরাসাও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।
স্থানীয় পোশাক শ্রমিক নাসরিন জানান, চার বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করলেও এত ভয়াবহ পরিস্থিতি আগে দেখেননি। মাত্র ১৫ দিন আগে বন্যার পানিতে তার সংসারের মালামাল নষ্ট হয়েছিল। এবারও একই পরিস্থিতিতে ঘর ছেড়ে সড়কের পাশে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ঘরের সব আসবাবপত্র, চাল-ডাল পানিতে ডুবে গেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনোমতে বের হতে পারলেও কিছুই সঙ্গে আনতে পারেননি। এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার একই দুর্ভোগে পড়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মুদি দোকানদার মনোয়ার হোসেন জানান, তার দোকানের সব পণ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগেই ক্ষতি সামলে উঠতে শুরু করেছিলেন, এর মধ্যেই আবারও জলাবদ্ধতায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
জলাবদ্ধতার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। টিউবওয়েল ও পানির পাম্প ডুবে যাওয়ায় বাসিন্দারা দূর-দূরান্ত থেকে বোতল ও পাত্রে করে পানি সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় রান্নাবান্নাও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের একটি বড় অংশ তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ায় বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক উপস্থিতি কমেছে এবং উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও প্রধান খালগুলো পরিষ্কারের কাজ চলছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানির উচ্চতার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে কালিয়াকৈর পৌরসভার একই এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছিল। কয়েকদিন পর পানি নেমে গেলেও এবার আবারও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।