ইপেপার / প্রিন্ট
ছুটি না নিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক পরিবীক্ষণ ও করদাতা সেবা) তানজিনা রইসকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তানজিনা রইসকে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর এক মাসের অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করে থাইল্যান্ড যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ৮ ডিসেম্বর থেকে ছুটি ভোগ শুরু করেন। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাবে তিনি ই-মেইলে জানান, ছুটির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন। তবে এনবিআর জানায়, তিনি নির্ধারিত নিয়ম ও বিধি অনুসরণ করে আবেদন করেননি।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ তার ছুটির আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে দ্রুত কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এনবিআর সূত্র জানায়, অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। নির্ধারিত সময়ে লিখিত জবাব না দেওয়ায় এনবিআরের সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিককে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিষয়ে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি।
পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) তার বরখাস্তের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের কর্মকর্তা তানজিনা রইস এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটি নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাকে শিক্ষা ছুটি দেওয়া হয়েছিল। পড়াশোনা শেষে তিনি দেশে ফিরে দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সন্তানের চিকিৎসার জন্য তিনি থাইল্যান্ডে যান। এ জন্য ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাকে ছুটি দেওয়া হয়। তবে এরপর তিনি দেশে না ফিরে অনুমতি ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং আর কর্মস্থলে ফেরেননি।
এনবিআর সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থাকা এবং সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণেই তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।