1. numanashulianews@gmail.com : kazi sarmin islam : kazi sarmin islam
  2. yoyorabby11@gmail.com : Munna Islam : Munna Islam
  3. admin@newstvbangla.com : newstvbangla : Md Didar
সৌদিতে প্রতারণায় স্বপ্নভঙ্গ ইন্নাত আলী যেভাবে খুনি - NEWSTVBANGLA
শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

সৌদিতে প্রতারণায় স্বপ্নভঙ্গ ইন্নাত আলী যেভাবে খুনি

প্রতিনিধি

পরিবারের ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ঋণ ও জমি বিক্রির আট লাখ টাকা রবিউলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন মেহেরপুরের গাংনীর ইন্নাত আলী। কথা ছিল সৌদি আরবে ‘ক্লিনার’-এর চাকরি দেয়ার।

সৌদিতে পাঠানোও হয় তাকে। তবে কাজ দেয়া হয় উত্ত্যপ্ত মরুভূমিতে রাস্তা মেরামতের। সব কষ্ট সহ্য করে বেতন ছাড়াই ছয় মাস কাজও করেন ইন্নাত।

একপর্যায়ে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়। উপায় না দেখে ইন্নাত দেশে ফিরে রবিউলের কাছে টাকা ফেরত চান। রবিউল তাকে ঢাকা আসতে বলে। দু’জন মিলে রাজধানীর ফকিরাপুরে বাবুল নামের এক ব্যক্তির অফিসে যায়।

একাধিক দিন অফিসে গিয়ে বাবুলের দেখা না পেয়ে ক্ষুব্ধ ইন্নাত আলী রবিউলের কাছে টাকা দাবি করেন। বলেন, আমি টাকা দিয়েছি তোমাকে, অন্য কাউকে আমি চিনি না।

কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গত বছর জুলাই মাসে ইন্নাত হাতুড়ি দিয়ে রবিউলকে সজোরে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে।

একপর্যায়ে রবিউল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বছরখানেক পলাতক থাকার পর ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার ইন্নাত আলী গত ৬ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসাইনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সব খুলে বলেন।

সম্প্রতি ডিবি পুলিশ রবিউল হত্যা মামলায় ইন্নাত আলীকে আসামি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল করেছে। গত বছরের জুলাইয়ে পল্টন থানায় হত্যা মামলাটি হয়।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা যুগান্তরকে বলেন, হত্যার প্রায় এক বছর পর ফরিদপুর থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, আট লাখ টাকায় সৌদি গিয়ে সুবিধা করতে না পেরে ইন্নাত আলী দেশে ফিরে রবিউলের কাছে টাকা ফেরত চায়।

রবিউল এ সময় বাবুলের কাছে ৫০ লাখ টাকা পাবেন বলে জানায় এবং ইন্নাতকে ঢাকা আসতে বলে। বাবুল টাকা না দিলে দু’জন মিলে বাবুলকে মেরে তার কাছে থাকা নগদ টাকা নিয়ে আসব বলেও রবিউল তাকে জানান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবুলকে মারার জন্য ইন্নাতকে একটি হাতুড়ি দেয় রবিউল। দুই দিন অফিসে গিয়ে বাবুলের সন্ধান না পেয়ে ইন্নাত ক্ষিপ্ত হয় রবিউলের ওপর।

কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রবিউল তার স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাজে কথা বলে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউলের দেয়া হাতুড়ি দিয়েই তাকে হত্যা করে ইন্নাত।

ইন্নাত আলী আদালতকে বলেছেন, টাকা দেয়ার এক বছর আগে রবিউলের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা জোগাড় করি। মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের কথা বলে আরও এক লাখ টাকা নেয়।

সৌদি গিয়ে মরুভূমিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। রবিউলকে জানালে সে আমাকে অপেক্ষা করতে বলে। কোনো বেতনও দেয়া হয়নি। পরে রবিউলের কথায় গত বছর ২২ জুলাই ঢাকায় আসি।

বাবুলের কথা বলে রবিউল আমাকে দু’দিন ঘুরায়। একপর্যায়ে সে আমার স্ত্রী-কন্যাকে গালাগালি দিলে আমি আর সহ্য করতে পারিনি। হাতুড়ির এলোপাতাড়ি আঘাতে ওর মাথা থেকে রক্ত বের হতে দেখে হাতুড়ি ফেলে পালিয়ে গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীতে যাই।

পরের দিন বরিউলের মারা যাওয়ার খবর শুনে গ্রাম থেকে পালিয়ে ফরিদপুরে গিয়ে একটি আড়তে কাজ শুরু করি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2015
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট