ইপেপার / প্রিন্ট
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও জোরালো করার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সময়ে শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস পেলেও তিনি আপাতত অনশন ভাঙছেন না।
বুধবার বিকেলে এক বিবৃতিতে সোনম ওয়াংচুক জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তাকে আশ্বাস দিয়েছেন—ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সহায়তা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে এই আশ্বাসের পরও তিনি অনশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেননি। তার বক্তব্যের পর সিজেপিও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ফাইলের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলেও দিল্লির জন্তর মন্তরে শত শত বিক্ষোভকারী অবস্থান করছিলেন। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য আন্দোলনকারীরা সেখানে জড়ো হন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেনামী ব্যক্তিরা ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও তাদের সহায়তা করছে।
এদিকে আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারও নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলন সামাল দিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী দিল্লিতে আনার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আন্দোলনকারীদের অভিযোগের বিপরীতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, সংসদে নিট পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা এবং তরুণদের যৌক্তিক উদ্বেগের সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
সংসদে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার বিষয়ে সরকার প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে। তবে আলোচনা কোন নিয়মে, কখন এবং কতক্ষণ হবে—তা সব দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণের কথা বলেছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। অন্যদিকে বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে।
আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্য বিক্ষোভস্থলে গিয়ে সমর্থন জানালেও ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা আন্দোলনটিকে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারের অবস্থান এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক ভূমিকা—সব মিলিয়ে দিল্লির আন্দোলন এখন আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।