ইপেপার / প্রিন্ট
রাজধানীর হাজারীবাগে সাগর আহমেদ বুলেট (২৮) নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি লোহার রড ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর সাগরকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বুধবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় বোন শারমিন বেগমের দাবি, সাগরকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাগর আগে একটি চকলেট কারখানায় কাজ করলেও পরে কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নিহতের ছোট ভাই শাওন অভিযোগ করেন, সাগরের সঙ্গে সব সময় চলাফেরা করত ইমন নামে ওই কিশোর। তার ধারণা, ইমনকে দিয়ে সাগরকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা ও পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় সাগর আহত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে কুলাল মহল মসজিদসংলগ্ন গলিতে সাগর ও ইমন খান একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হুমায়ুন কবির, আকাশ, সাব্বির, মোল্লা ইমনসহ আরও কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে সাগরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তারা ধাওয়া করে ভাগলপুর লেনের একটি বাড়ির সামনে তাকে ধরে ফেলে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।
হাজারীবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে এজাহার, সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে চারজনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামি হুমায়ুন কবির ও মোল্লা ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি লোহার রড ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অন্যান্য অস্ত্র ও আলামত উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে গ্রেপ্তার দুই আসামির সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, ঘটনার সময় ইমন নিহত বুলেটের সঙ্গে ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে চলাফেরা করত। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইমনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।