ইপেপার / প্রিন্ট
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “১২ তারিখে দুটি ভোট হবে। একটি ভোট হচ্ছে জুলাই বিপ্লবকে বুকে আঁকড়ে ধরার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট। জুলাই আছে তো ২০২৬-এর নির্বাচন আছে, জুলাই যেখানে নেই সেখানে ২০২৬-এ কোনো নির্বাচন নেই।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা জুলাই মানে না, তাদের জন্য আবার কিসের নির্বাচন? যারা জুলাইয়ের চেতনাকে ঐতিহ্যের সঙ্গে বুকে ধারণ করে, নির্বাচন তাদের জন্য। ঠেলা খাইলে বাবাও ঠিক হয়—ঠেলার নাম বাবাজি আছে না? প্রথমে যারা না ভোট বলেছিল, এখন দেখেন তারাই হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলছে, তারা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবে। দোয়া করি, তাদের মুখের কথাটা যেন বুকের কথাই হয়।”
জামায়াত আমির বলেন, তিনি শুধু একটি দলের বিজয় চান না, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে যুবকরাই রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে।
তিনি বলেন, “ডাকসু থেকে শুরু হয়ে গণতান্ত্রিক ধারা জকসুতে এসে থেমে গেছে। আমরা যুবকদের শুধু চাকরির প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না; বরং তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বীরেরা কখনো মরে না। তারা জীবন দিয়ে প্রমাণ করে যায়, দেশ ও মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গই প্রকৃত রাজনীতি। তারা আমাদের সৎ রাজনীতির শিক্ষা দিয়ে যায়। আমরা প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও জুলাইয়ের চেতনা কাউকে কেড়ে নিতে দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম, কিন্তু গত ১৫ মাসে অনেকে চাঁদাবাজে পরিণত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হলে দেশে আর কোনো দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।”
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “মাঘ মাসেই যদি মাথা এত গরম হয়, তাহলে চৈত্র মাসে কী অবস্থা হবে? মাথা গরম হলে মানুষ দিগভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু আগামীর বাংলাদেশ গড়বে যুবকরাই, তারা ঘুমিয়ে নেই।”
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতি ইঙ্গিত করে ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত—এই ধরনের রাজনীতির কোনো মূল্য নেই। আমার মায়ের মর্যাদার কাছে ফ্যামিলি কার্ড নস্যি।”
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হলে এমন আগুন জ্বলে উঠবে, যা কেউ নেভাতে পারবে না। ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের গতিপথ পরিবর্তন করা যাবে না। চূড়ান্ত লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ আমরা থামব না।”