1. numanashulianews@gmail.com : kazi sarmin islam : kazi sarmin islam
  2. islamkazisarmin@gmail.com : newstv : Md newstv
  3. anonnaa5481@gmail.com : newstv2232 :
  4. admin@newstvbangla.com : newstvbangla : Md Didar
দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল, কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস - NEWSTVBANGLA
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন, ভুক্তভোগীকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজ উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় আদালতে পাঠানো খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল, কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস সাভারে ইটের দেয়াল তুলে চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী। বাইরে টাটকা, ভেতরে পচন—রোগবালাই ও দামে ধসের চাপে খাগড়াছড়ির আমচাষিরা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড ‘১ টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে’—আইনমন্ত্রী সরাইলে সুদের টাকা নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০ সম্পদ পুনর্মূল্যায়নে শ্যামপুর সুগারের মূল্য বেড়েছে ৭৬৩ কোটি টাকা

দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল, কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস

প্রতিনিধি

 

দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা ১৮৬৭ সালের The Public Gambling Act, 1867 বাতিল করে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনটির মাধ্যমে প্রচলিত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক লেনদেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য জুয়ার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়। এর আগে বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়।

আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিস্তার, অনলাইন বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত প্রতারণা ও অর্থপাচার দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এসব অপরাধ কার্যকরভাবে দমনে আধুনিক ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছিল।

নতুন আইনে জুয়া-সংশ্লিষ্ট ২৪টি বিষয়ে স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, বুকমেকার, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া ও ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ডোমেইন সার্ভিস ও ক্লাউড অবকাঠামোর ব্যবহার।

আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অনলাইন বেটিং পরিচালনা বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি আদালত সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার বা অন্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। জুয়ার সরঞ্জাম প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রি, সরবরাহ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী বুকমেকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্যও ঘোষণা করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রতিশ্রুতি, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী কিংবা খেলোয়াড়—যে কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন।

ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, জুয়ার অর্থ ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টা করলে তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কোনো কোম্পানি, করপোরেট সংস্থা, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে। একই সঙ্গে আদালত প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত অথবা বাতিল করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, ডিভাইসসহ অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তদন্ত চলাকালে এসব হিসাব বা সম্পদ সাময়িকভাবে ফ্রিজ করারও সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকার বা সরকার-নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া ও বেটিং-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ বা চ্যানেল ব্লক বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। পাশাপাশি জুয়া, অনলাইন বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট, এনআইডি-সিম-এমএফএস সংযুক্তিকরণ ব্যবস্থা এবং আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2015
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট
error: Content is protected !!