স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা সংস্কার ও সব ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালার সঙ্গে সরকারের সাম্প্রতিক আইনগত পরিবর্তনের একটি তুলনামূলক চিত্র প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
বুধবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত সংস্কার কমিটির বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নির্বাচনী বিধিমালায় কিছু অসামঞ্জস্য ও ভিন্নতা রয়েছে। সরকার স্থানীয় সরকার আইনগুলোতে যেসব সংশোধনী এনেছে, সেগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিধিমালার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী বিধিতে বর্তমানে কী কী বিধান রয়েছে এবং সরকার নতুন আইনে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে—সেগুলো পাশাপাশি বিশ্লেষণ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আইনি ও বিধিগত অসংগতিগুলো সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিমালা তৈরির লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধনী কার্যক্রম শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাগিদও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, পোস্টারনির্ভর নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ বা সীমিত করা এবং ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিলের বিষয়টি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশে প্রায় চার হাজার ১০০ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশাল এ নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বর্তমানে বিধিমালা সংস্কারের কাজ জোরদার করা হয়েছে।