সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে মেরুদণ্ডের জটিল অপারেশন। এই সাফল্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোববার (১২ এপ্রিল) রোগীকে সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে উদযাপন করেন এবং অপারেশন টিমকে সম্মাননা জানান।
এই অপারেশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন হাঁটতে না পারা এক যুবক এখন আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে পারছেন, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চকনূর গ্রামের বাসিন্দা মো. মেরাজুল ইসলাম (২৪) গত ২ মার্চ গাছ কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় একটি ভারী গাছ তার পিঠের ওপর পড়ে গেলে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং ১৮ মার্চ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে অপারেশনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ও প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচের কথা জানানো হয়। এত বড় ব্যয় বহন করতে না পেরে পরিবারটি আবার সিরাজগঞ্জে ফিরে আসে এবং ২৮ মার্চ পুনরায় একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৭ এপ্রিল অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে মাত্র ১ লাখ টাকার মধ্যে সফলভাবে মেরুদণ্ডের এই জটিল অপারেশন সম্পন্ন করা হয়, যা এই জেলায় প্রথম।
রোগী মো. মেরাজুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি হাঁটতে পারছিলেন না। তবে অপারেশনের পর এখন তিনি আবার হাঁটতে ও বসতে পারছেন, যা তার জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।
রোগীর মা মোছা. মহারানি বলেন, ঢাকায় চিকিৎসার খরচ বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু সিরাজগঞ্জেই স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ায় তার ছেলে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে।
ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সাধারণত এ ধরনের অপারেশন জেলা পর্যায়ে করা হয় না। তবে তার পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি এই ঝুঁকি নেন এবং সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, প্রথমবারেই এমন সফলতা অর্জন করা একটি বড় অর্জন। ভবিষ্যতেও স্বল্প খরচে এ ধরনের চিকিৎসা সেবা চালু রাখার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
এই সফল অপারেশন শুধু একজন রোগীর জীবনেই পরিবর্তন আনেনি, বরং প্রমাণ করেছে জেলা পর্যায়েও উন্নত চিকিৎসা সেবা সম্ভব।