ইপেপার / প্রিন্ট
সচিবালয়ের সামনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইম এশিয়ার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৮ই জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে জাস্টিস ফর জুলাই’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ বাহিনী নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। জুলাইয়ে অসংখ্য পুলিশ গণহত্যা চালিয়েছিল, তাদের এখনো বিচারের আওতায় আনা হয়নি। বাংলার ইতিহাস থেকে দেখা যায়, প্রশাসন জনতাকে ছোট করে তাদের নিকৃষ্টভাবে দমন করে। প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেসরকারি) শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরোচিত আক্রমণ করা হয়েছে তা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। সচিবালয়ের সামনে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ন্যায্য ছিল।
এ সময় জাস্টিস ফর জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র মাঈন আল মুবাশ্বীর বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী কাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যাবে না। সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তাদের দোসর বসে আছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যদি আপনারা অন্যায়ের বিচার না করেন তবে ছাত্র জনতা আবারো সচিবালয় ঘেরাও করবে, গণভবন ঘেরাও হবে। আপনার অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লেখালেখি করেন। জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একে এম রাকিব বলেন, গতদিনে মানুষ কথা বলার ও লেখার স্বাধীনতা পায়নি। জুলাইয়ে ফ্যাসিস্টদের আপা বিদায় নিলেও তাদের দোসর বিদায় নেয়নি। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে এটা তারই প্রতিচ্ছবি। এভাবে মানুষের মুখের ভাষা যেন আর কখনো কেড়ে নেওয়া না হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঘুম থেকে উঠুন, জুলাইয়ের খুনি বাইরে কেন, জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার কতদূর, পুলিশ তুমি কার, জনতার না ক্ষমতার’ ইত্যাদি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে সচিবালয়ের সামনে আন্দোলন করছিল শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় শিক্ষার্থীদের। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করে পুলিশ।