ইপেপার / প্রিন্ট
রাঙামাটিতে রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিটবিহীন অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চালক কল্যাণ সমিতি। মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী রোববার (১২ জুলাই) ধর্মঘটসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের একমাত্র রিকশাবিহীন পর্যটন শহর রাঙামাটিতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এতে শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। যত্রতত্র পার্কিং, নিয়ম না মানা এবং যাত্রী পরিবহনে অনিয়মের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অনেক চালক যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ফলে শহরের সুনাম ও পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংগঠনের নেতাদের দাবি অনুযায়ী, রাঙামাটিতে বর্তমানে ১ হাজার ৪১৬টি নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে এবং আরও প্রায় ৮০টির নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন। এর বাইরে অন্তত তিন শতাধিক নিবন্ধন ও রুট পারমিটবিহীন অটোরিকশা অবৈধভাবে চলাচল করছে।
তাদের অভিযোগ, অবৈধ অটোরিকশার কারণে বৈধ চালক ও মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে জানান তারা।
মানববন্ধনে জানানো হয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী রোববার থেকে ধর্মঘট শুরু করা হবে এবং পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রাঙামাটি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতা ও বিএনপি নেতা আলী বাবর, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু, রবিউল হোসেন বাবলু, বেলাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।
এদিকে, শহরের যানবাহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সিএনজি চালকদের জন্য ইউনিফর্ম পরিধান ও পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।