ইপেপার / প্রিন্ট
টানা একদিনের ভারী বর্ষণেও জলাবদ্ধতার বড় ধরনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেয়েছে চট্টগ্রাম নগরী। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলেও নগরীর নিচু এলাকাসহ কোথাও উল্লেখযোগ্য পানি জমেনি। তবে ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি ও পাহাড়ের পাদদেশসংলগ্ন এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। একই সঙ্গে সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় এই বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে আগামী সময়েও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতীতে এমন বৃষ্টিতে নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, চকবাজার ও অন্যান্য জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও এবার পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। নগরজুড়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হওয়ায় যান চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি চলাচলের পথ সচল রাখা এবং বৃষ্টির সময় মাঠপর্যায়ে কর্মীদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করায় জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। বৃষ্টির শুরু থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং কোথাও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।
চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। খাল-নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখার সুফল এখন দৃশ্যমান। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, যাতে ভারী বর্ষণেও নগরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
তিনি আরও বলেন, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ড্রেনেজ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) জানিয়েছে, চলমান ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন খাল ও জলপ্রবাহের পথ সচল রাখতে তদারকি অব্যাহত রয়েছে। সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। গভীর রাত পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবাহ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
এদিকে, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টির পরও নগরীতে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তবে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।