ইপেপার / প্রিন্ট
শুক্রবার দেশে সংঘটিত বিধ্বংসী ভূমিকম্পকে আসন্ন ‘মহাবিপর্যয়ের’ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে উচ্চমাত্রার কোনো ভূমিকম্পে বাংলাদেশ ‘লাখো মানুষের কবরস্থানে’ পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। এই বিপর্যয় এড়াতে অবিলম্বে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি আজকের ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। খোমেনী ইহসান বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই। এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এবং পুনর্বাসিত হতে পারেন, সেই আশা করছি।’ ভূমিকম্পের ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের কম্পনে জনমনে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তা অমূলক নয়। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত আকাশচুম্বী ভবন। তার মতে, আবাসন খাতের অসাধু ব্যবসায়ী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জলাশয় ভরাট করে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোকে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা হয়েছে।
রানা প্লাজা ধস বা বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় উদ্ধার সক্ষমতার দুর্বলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে সরকারের কাছে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো:
১. সারা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার বা অপসারণ করা।
২. ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা।
৩. ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আন্তর্জাতিক মানের উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা।
৪. ভূমিকম্প-পরবর্তী আশ্রয়ের জন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিত করা।
৫. গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ড রোধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বা অটো-শাটডাউন প্রযুক্তি চালু করা।