ইপেপার / প্রিন্ট
বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নির্বাচনের জন্য এমন একটি অনুকূল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে দেশের সব নাগরিক নির্ভয়ে, শান্তিপূর্ণভাবে এবং কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন ও নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, জুলাই বিপ্লবের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কোনো দিকনির্দেশনা দেবেন কি না।
জবাবে ফারহান হক বলেন, জাতিসংঘ নির্বাচন আয়োজনকে উৎসাহিত করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানায়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের পুরো ব্যবস্থার পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে—নির্বাচনে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য, যেখানে সব নাগরিক নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ পান।
তিনি আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত্তি। এ ধরনের নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
জাতিসংঘের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমান সুযোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, জাতিসংঘের এই অবস্থান নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।