ইপেপার / প্রিন্ট
গৃহশ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে তিনটি সংগঠন—আশার আলো সোসাইটি, নারী মৈত্রী এবং সহায়।
বুধবার (৬ মে ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক জমায়েতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, গৃহশ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত ও অস্বীকৃত শ্রম পরিস্থিতি পরিবর্তনে এখনই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
নারী মৈত্রীর প্রতিনিধি রামিসা চৌধুরী বলেন, দেশে গৃহশ্রমিকদের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহকর্মে নিয়োজিত, যাদের বড় অংশই নারী। জলবায়ু পরিবর্তন ও কর্মসংস্থানের অভাবে গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা শহরে এসে এই কাজে যুক্ত হচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালে গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও এর বাস্তবায়ন খুবই সীমিত। হেল্পলাইন, মনিটরিং সেল ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থাও কার্যত অকার্যকর রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তারা ১০ দফা দাবিতে বলেন—গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, কাজের সময়সীমা ও ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা, জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা, দুর্ঘটনায় চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ, শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধা এবং সহিংসতার মামলার কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, জাতীয় পেনশন স্কিম এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে গৃহশ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বেসরকারি গৃহশ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, গৃহশ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।