ইপেপার / প্রিন্ট
বিশ্বখ্যাত মডেল জিজি হাদিদ নিজের ও বোন বেলা হাদিদ-এর নাম বিতর্কিত নথিতে আসা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘বিব্রতকর’ ও ‘ডিস্টার্বিং’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কুখ্যাত ব্যক্তি জেফ্রি এপস্টেইন-এর সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি ইমেইল চালাচালিতে এই দুই বোনের নাম উঠে আসে। সেখানে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি এপস্টেইনের কাছে জানতে চান, কীভাবে জিজি (৩০) ও বেলা (২৯) এত বড় মডেল হলেন। জবাবে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘তারা নির্দেশ মেনে চলে, বিষয়টি এতটাই সহজ।’
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। গত ২৯ মার্চ জিজির ইনস্টাগ্রামে এক অনুসারী তার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
জিজি বলেন, কখনো দেখা না হওয়া একজন ব্যক্তি তাকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন—এটি তার জন্য ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, এতদিন তিনি মন্তব্য করেননি কারণ প্রকৃত ভুক্তভোগীদের বিষয়টি আড়ালে পড়ুক, তা তিনি চাননি। তবে পরিস্থিতি পরিষ্কার করা প্রয়োজন মনে করেই এবার মুখ খুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যখন ওই ইমেইলটি লেখা হয়েছিল তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ২০-২১ বছর। সেই ফাইলে নিজের নাম দেখা সত্যিই অস্বস্তিকর। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ওই জঘন্য মানুষের সঙ্গে আমার কখনোই কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।’
নিজের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে জিজি হাদিদ বলেন, তিনি সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারে বড় হলেও তার বাবা-মা তাকে কঠোর পরিশ্রমের মূল্য শিখিয়েছেন। ২০১২ সালে মডেলিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তির পর থেকে তিনি নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অবস্থান তৈরি করেছেন।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টেইন ছিলেন একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অসংখ্য নারী তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ১০ আগস্ট বিচার চলাকালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন তিনি। সম্প্রতি তার সংশ্লিষ্ট ফাইল প্রকাশ্যে আসায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।