ইপেপার / প্রিন্ট
নওগাঁর মান্দায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইবুল্যা এলাকায় নদীপাড়ের ফসলি জমিতে শ্যালোমেশিনের সাহায্যে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে প্রভাবশালী বালু ব্যাবসায়ীদের লোকজন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় এরই মধ্যে আত্রাই নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে কৃষকের অন্তত ৫০ বিঘা উর্বর জমি। এতে করে অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর ভাটি অংশের বাইবুল্যা এলাকায় অবৈধভাবে নদীপাড় থেকে বালু উত্তোলন করছেন আরিফ হোসেন নামের এক বালু ব্যাবসায়ী। এর পর ড্রেজার মেশিন দিয়ে ওইসব বালু কেটে দিয়ে নদীর অপর প্রান্তে নিয়ে জমা করা হচ্ছে। সেখান থেকে বিক্রি করা হচ্ছে অবৈধপন্থায় উত্তোলন করা এসব বালু। একইভাবে খুদিয়াডাঙ্গা শ্মশানঘাট, এলেঙ্গা সুইসগেট, পাঁজরভাঙ্গা, ফকিন্নি নদীর ব্রিজ সংলগ্ন পূর্বপাড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে।
এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীপাড়ে ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকের আর কোনো জমি থাকবে না। হুমকির মুখে পড়বে আত্রাই নদীর উত্তরতীরের বেঁড়ি বাঁধ। বর্ষা মৌসুমে চরম ঝুঁকিতে পড়বেন নদীপাড়ের শতাধিক পরিবার। স্থানীয়রা জানান, নদীপাড়ের এসব উর্বর জমিতে বছরের আট মাস গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, মিষ্টি আলু, মরিচ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। এসব উর্বর ফসলি জমি রক্ষায় উপজেলা মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এসিল্যাণ্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকার কৃষকেরা। এর পরও অবৈধ বালু ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।বালু ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, বৈধভাবে ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছি। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির মুন্সী বলেন, বিষয়টি জেনেছি। যদি নদীর তীর কেটে কেউ মাটি উত্তোলন করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।