ইপেপার / প্রিন্ট
দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণদের নেতৃত্বে একের পর এক বড় আন্দোলন দেখা গেলেও পাকিস্তান এখনো ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং সর্বশেষ ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেললেও পাকিস্তানে তেমন কোনো জাতীয় গণআন্দোলন গড়ে ওঠেনি।
সম্প্রতি ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তরুণদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাতেও তরুণদের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছিল।
দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্নীতি, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক সংকট ও জনঅসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানে কেন বড় কোনো গণআন্দোলন হচ্ছে না?
বিশ্লেষকদের মতে, এর অন্যতম কারণ পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ। সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউল হক ১৯৮০ সালে ছাত্র ইউনিয়ন নিষিদ্ধ করেন, যা আজও পুরোপুরি পুনর্বহাল হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শক্তিশালী ছাত্র আন্দোলনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
এছাড়া পাকিস্তানের সমাজে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন বড় একটি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক তরুণের মতে, পাঞ্জাবি, পশতুন, শিয়া, সুন্নিসহ বিভিন্ন পরিচয়ে বিভক্ত থাকায় একটি জাতীয় ইস্যুতে সবাইকে একত্র করা কঠিন।
যদিও বেলুচিস্তান ও আজাদ কাশ্মিরে বিভিন্ন সময় আন্দোলন হয়েছে, তবে সেগুলো ছিল অঞ্চলভিত্তিক, জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনের অনুপস্থিতি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক বিভাজনের কারণেই পাকিস্তানে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো বড় পরিসরের তরুণদের আন্দোলন এখনো গড়ে ওঠেনি।