ইপেপার / প্রিন্ট
মিয়ানমারের শান প্রদেশের নামখাম জেলার কাউং তাত গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রোববার (৩১ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কাউং তাত গ্রামের প্রায় ২০০টি এবং পার্শ্ববর্তী পান লোন গ্রামের আরও ১০০টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।
নিহতদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া নিহতদের মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং এক বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে পরে এক বিবৃতিতে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন Ta’ang National Liberation Army (টিএনএলএ) জানায়, কাউং তাত গ্রামের একটি গুদামে খনির কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক জেলিগনাইট সংরক্ষণ করা ছিল। দুর্ঘটনাবশত ওই বিস্ফোরক ফেটে যাওয়ার ফলে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।
সোমবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। টিএনএলএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কাউং তাত ও পান লোন গ্রাম থেকে অন্তত ৭৪ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে টিএনএলএ। কীভাবে বিপুল পরিমাণ জেলিগনাইট বিস্ফোরিত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শান প্রদেশ মিয়ানমারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে মূল্যবান জেড পাথরের খনি রয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর অঞ্চলটির বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয় টিএনএলএ, যা বর্তমানে দেশটির অন্যতম শক্তিশালী জান্তাবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত।