ইপেপার / প্রিন্ট
যুদ্ধ, সীমান্ত বন্ধ আর স্বজন হারানোর বেদনা— সব মিলিয়ে চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে গাজার মানুষের। সেই সংকটের মধ্যেই এবারও হজ পালন করতে পারছেন না হাজারো ফিলিস্তিনি। একই সঙ্গে পশু আমদানি বন্ধ থাকায় টানা তৃতীয়বারের মতো কোরবানি ছাড়াই ঈদুল আজহা উদযাপন করতে যাচ্ছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা।
গাজা উপত্যকা–র বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী নাজিয়া আবু লেহিয়ার স্বপ্ন ছিল স্বামীকে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করবেন। ২০২৪ সালে হজের জন্য নিবন্ধনও করেছিলেন তারা। নির্বাচিত হওয়ার পরও যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।
বর্তমানে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস–এ একটি তাঁবুতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন নাজিয়া। গত বছর ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন তার স্বামী। ধ্বংস হয়েছে তাদের বাড়িঘরও।
বার্তাসংস্থা Agence France-Presse (এএফপি)-কে নাজিয়া বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর হজে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও এখনও আশা ছাড়েননি তিনি।
তার ভাষায়, “আমি বহু বছর আগে থেকেই হজের নিয়্যত করেছি। মাঝে মাঝে ভয় হয়, আমিও হয়তো একদিন বোমা হামলায় মারা যাবো। তারপরও বিশ্বাস করি, আল্লাহ চাইলে একদিন হজ করতে পারবো।”
যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার মুসল্লিরা রাফা ক্রসিং পেরিয়ে মিসর হয়ে মক্কা–য় হজ করতে যেতেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সীমান্তটি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে রাফা ক্রসিং খুলে দেওয়া হলেও মূলত আহত ও অসুস্থদের যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। হজযাত্রীদের জন্য এখনো সীমান্ত উন্মুক্ত হয়নি।
এদিকে যুদ্ধের কারণে গাজায় পশু আমদানিও বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতি বছর হাজার হাজার গরু, উট, ভেড়া ও দুম্বা আমদানি করা হলেও ২০২৪ সাল থেকে সেই কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গাজার মানুষ এবারও পশু কোরবানি ছাড়াই ঈদুল আজহা পালন করতে বাধ্য হচ্ছে।
গাজায় চলতি বছর ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৭ মে। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কিছু খাদ্যপণ্য প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, তবে কোরবানির পশু আমদানির অনুমতি এখনও মেলেনি। মানবিক সংকটের এই বাস্তবতায় ঈদের আনন্দের বদলে হতাশা ও অনিশ্চয়তাই এখন গাজার মানুষের নিত্যসঙ্গী।