যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন-এ হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদের বার্ষিক নৈশভোজকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ নিরাপত্তা হুমকির ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
রোববার দেশটির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, হামলাকারী পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে প্রেসিডেন্টসহ প্রশাসনের ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করতে চেয়েছিল। তবে প্রবেশদ্বারেই সন্দেহজনক আচরণ ধরা পড়ায় ইউএস সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় বন্দুকধারী একজন এজেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গ্রেপ্তার করেন। ঘটনাটি ঘটে ওয়াশিংটন হিল্টন হোটেল-এর নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-কে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই আতঙ্কে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ট্রেনে করে শিকাগো হয়ে ওয়াশিংটনে আসেন। তার কাছে একটি শটগান, একটি হ্যান্ডগান এবং একাধিক ধারালো অস্ত্র পাওয়া গেছে। তাকে ৩১ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা কোল টমাস অ্যালেন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, তার বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলা, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হবে। তবে এই হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তিনি নিজেই। আহত সিক্রেট সার্ভিস সদস্য বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরিহিত থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন।
এই হামলাটি ২০২৪ সালের পর থেকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে তৃতীয় হত্যাচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক বিভাজন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে এটিকে “মুক্ত ও উন্মুক্ত সমাজের ওপর আঘাত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্বনেতারা একযোগে বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
ঘটনার তদন্ত চলছে এবং কীভাবে অস্ত্র নিয়ে হামলাকারী হোটেলে প্রবেশ করতে সক্ষম হলো, সেটিই এখন তদন্তের প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।