স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তদন্তে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পেতে দফায় দফায় চিঠি দেওয়ার পরও গড়িমসি করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন সর্বশেষ গত সপ্তাহে আবারও তাগিদপত্র পাঠিয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর থেকে অন্তত দুই দফায় নথিপত্র চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো সেগুলো সরবরাহ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. মো. শামিউল ইসলাম সাদী-এর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তাধীন। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি না পাওয়ায় অনুসন্ধান কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
দুদকের চাহিদা অনুযায়ী যেসব নথি চাওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগে আবেদনপত্র, লিখিত ও প্রিলিমিনারি পরীক্ষার হাজিরা শিট, মূল্যায়িত খাতা, ভাইভা পরীক্ষার নম্বরপত্র, চূড়ান্ত ফলাফল এবং নিয়োগপত্রসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড। পাশাপাশি এ বিষয়ে কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়ে থাকলে তার প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করোনা মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে ৮৮৯ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ১,৮০০ জন মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকলেও পরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন ডা. সাদী ও তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালে ৩০ জনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া ২০২০ সালের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে কয়েকশ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
আরও অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৫ জনকে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিটি নিয়োগে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদের তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের গতি নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত সরবরাহের ওপর।