ইপেপার / প্রিন্ট
আজ (১৭ মার্চ ২০২৬) বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ১০৭তম জন্মদিন। তিনি ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর বাবা ছিলেন শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুন। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। ছোটবেলা থেকেই গ্রামীণ সমাজের সুখ-দুঃখ, শোষণ ও বৈষম্য প্রত্যক্ষ করায় বঙ্গবন্ধু মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে ওঠেন।
শেখ মুজিবুর রহমান কিশোর বয়সেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে অধ্যয়নকালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রথমবার গ্রেপ্তার হন। এরপর শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবনের পথ।
তিনি জীবনের প্রায় ১৪ বছর পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং দুইবার ফাঁসির মুখোমুখি হন। তবুও কখনও আত্মমর্যাদা ও জাতির অধিকারের প্রশ্নে মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠন করেন। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন ও ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথে অনুপ্রাণিত করে। ২৬ মার্চ ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় মুক্তি। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক হিসেবে চিরস্মরণীয়।
দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার মাত্র চার বছর পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিশ্বাসঘাতকদের নির্মম বুলেটে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কালরাত্রি হিসেবে চিহ্নিত।
বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্ব আজও বাঙালি জাতির কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।