ইপেপার / প্রিন্ট
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটকে ঘিরে প্রাক-নির্বাচনী পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা ও মব ভায়োলেন্সকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে কমিশন দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. মাহফুজুল হক বলেন, দেশের ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য বরাদ্দ করা অর্থের বড় অংশ স্লিপ ফান্ডের মাধ্যমে অন্য জায়গায় উত্তোলন ও জমা করা হয়েছে। পরে সামান্য অংশ অবকাঠামো সংস্কার বা লজিস্টিক ক্রয়ে ব্যবহৃত হলেও বড় অংশ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মাহফুজুল হক বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কমিশন এসবকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের অবস্থান দায়িত্বহীন এবং বাস্তবতা-বিবর্জিত।
টিআইবি মনে করে, শুধুমাত্র ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করাই যথেষ্ট নয়। তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অনিশ্চয়তা কমাতে দৃঢ় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। কমিশনকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে হবে, অর্থ ব্যবহারে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সহিংসতার প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।