ইপেপার / প্রিন্ট
ভোলার দৌলতখান উপজেলার বিচ্ছিন্ন মদনপুর ইউনিয়নে গত চার বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। মেঘনা নদীর তলদেশে থাকা সাবমেরিন কেবল ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিসহ জনজীবনের নানা খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সালের জুন মাসে মেঘনা নদীতে চলাচলকারী একটি জাহাজের নোঙরের আঘাতে সাবমেরিন কেবলটি ছিঁড়ে যায়। এরপর চার বছর পার হলেও কেবলটি মেরামতের কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
জানা গেছে, ২০২১ সালের শুরুতে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সদর উপজেলার তুলাতুলি পয়েন্ট থেকে মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে সাড়ে চার কিলোমিটার সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে মদনপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ পেয়ে প্রায় ৭৫০টি পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংযোগ নেয়। তবে মাত্র সাত মাসের মাথায় সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়দের টিভি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে গেছে। অনেকেই ধারদেনা করে এসব যন্ত্র কিনেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুতের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। কৃষকরাও উৎপাদিত সবজি ও অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সম্প্রতি মদনপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি জানিয়ে প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, সাবমেরিন কেবলটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও অর্থের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মদনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা।