ইপেপার / প্রিন্ট
মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ৩৯ বছরে পা দেবেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার Lionel Messi। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠে তার পারফরম্যান্স দেখে বয়সের ছাপ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এখনও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চলা এই মহাতারকার সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং ফিটনেসের প্রতি অসাধারণ মনোযোগ।
২০১৫ সালের দিকে ম্যাচ চলাকালীন এবং ম্যাচ শেষে প্রায়ই বমি করতে দেখা যেত মেসিকে। সেই শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তিনি ইতালির পুষ্টিবিদ Giuliano Poser-এর শরণাপন্ন হন। এরপরই বদলে যায় তার জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস।
মেসি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে তরুণ বয়সে তিনি নিয়মহীনভাবে চকলেট, মিষ্টি ও কোমল পানীয় খেতেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনধারায় অভ্যস্ত হন।
ডক্টর পোজারের পরামর্শে মেসির খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় কোমল পানীয়, চকলেট, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পিৎজার মতো খাবার। একইসঙ্গে কমিয়ে আনা হয় লাল মাংস খাওয়ার পরিমাণ। এর পরিবর্তে তার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা হয় প্রচুর পানি, অলিভ অয়েল, গোটা শস্য, অর্গানিক ফল এবং কীটনাশকমুক্ত শাকসবজি।
পোজারের ভাষায়, “চিনি পেশির জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদানগুলোর একটি। আমার লক্ষ্য ছিল মেসিকে নতুন খেলোয়াড় বানানো নয়, বরং তার ক্যারিয়ারকে আরও দীর্ঘায়িত করা।”
এই পরিবর্তনের পর থেকেই মেসির শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। কমে যায় বমির সমস্যা এবং পেশির ইনজুরির ঝুঁকিও। ফলে বয়স বাড়লেও মাঠে তার ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
তবে এত কড়াকড়ির মাঝেও একটি দুর্বলতার কথা হাসিমুখে স্বীকার করেছেন মেসি। তিনি বলেন, “খাবারের ব্যাপারে আমি অনেক সচেতন। তবে মাঝেমধ্যে চকলেটের লোভ সামলাতে পারি না, একটু-আধটু ভুল হয়েই যায়।”