ইপেপার / প্রিন্ট
বৃক্ষরোপণকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনসাধারণের ব্যক্তিগত আন্দোলনে রূপ দিতে চায় সরকার—এমন আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (১ এপ্রিল) সরকার ঘোষিত আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তিকে নিজ নিজ জায়গা থেকে গাছ লাগানোর দায়িত্ব নিতে হবে। সবার সক্রিয় অংশগ্রহণেই একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
রাজধানীর পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাদানী অ্যাভিনিউ সংযোগ সড়কে (জলসিঁড়ি আবাসনসংলগ্ন) এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, “এই কর্মসূচি যেন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। আজ থেকেই দেশের সব সড়ক ও মহাসড়কে বাস্তবভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে।” তিনি আরও জানান, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাশ্রয়ী ও কার্যকর পদ্ধতিতে গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়—১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০-৮৫টি যেন টিকে থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবারের আনন্দঘন মুহূর্ত—যেমন নতুন সদস্যের আগমন—এসব উপলক্ষে গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এতে করে দ্রুত দেশ সবুজে ভরে উঠবে।
বর্তমানে দেশে বনভূমির ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বছর ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও নতুন সড়ক প্রকল্পের খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি টেকসই বাংলাদেশ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা সফল করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।