ইপেপার / প্রিন্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে আমার মা ফাউন্ডেশন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে আমার মা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জি এম কামরুল হাসান বলেন, একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন মায়ের মর্যাদা নিশ্চিত হয়, যুবসমাজ কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, কৃষক ন্যায্য মূল্য পায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। তিনি বলেন, মানুষের সম্মান, মায়ের মর্যাদা ও যুবকের ভবিষ্যৎ—এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত ইশতেহারে সমাজকল্যাণ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন ও দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে—
গৃহিণী মায়েদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানী ভাতা চালু করে তাদের শ্রমের অর্থনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান, বেকার যুবসমাজকে রাষ্ট্রীয় খরচে কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমার পরিবর্তে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা।
এ ছাড়া দেশের প্রায় ৫৫ লাখ বিক্রয় ও বিপণন পেশাজীবীর জন্য কর্ম নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন স্কিম চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য ও ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূলে ‘এএমএফ হোম ইয়ার্ড ইকোনোমি’ বাস্তবায়নের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের স্বাধীন কর্মপরিবেশ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খতিবসহ ধর্মীয় নেতৃত্বকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।
এছাড়া শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষিকে প্রধান অর্থনৈতিক খাত ঘোষণা করে সুদমুক্ত কৃষিঋণ চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, গৃহকর্মীদের ন্যায্য মজুরি ও আর্থিক নিরাপত্তা, নিরাপদ সড়ক ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা, নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রবীণ নাগরিকদের বয়স্ক ভাতা ও স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো হবে।
পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, গ্রামভিত্তিক কুটির শিল্প ও কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে শহরমুখী জনস্রোত কমানো, প্রবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আমার মা ফাউন্ডেশনের নেতারা জানান, এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান।