বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার ঘটনায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে হাসপাতালের ওপিডি ভবনের মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রোগী দিপালী সিকদার (৪০) মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের বাসিন্দা এবং শংকর সিকদারের স্ত্রী।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত সোহেল নামের কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, শ্বাসকষ্ট নিয়ে দিপালীকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। তবে শয্যা সংকট ও ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে তাকে ট্রলিতেই রাখা হয়েছিল।
নিহতের ভাই মিলন হাওলাদার অভিযোগ করেন, মেডিসিন ইউনিট-১-এর এক কর্মচারী সোহেল ২০০ টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে রোগীর অক্সিজেন লাইন খুলে দেন। পরিবারের অনুরোধ উপেক্ষা করে অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত কর্মচারীকে মারধর করেন। পরে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফ ও নিরাপত্তাকর্মীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে হাসপাতাল এলাকায় কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আনসার সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। দায়িত্বে থাকা এক সদস্য জানান, উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত কর্মচারীকে মারধর করছিল। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর তিনি হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এবং দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় থানাও বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়েছে।