ইপেপার / প্রিন্ট
রাজধানীর হাতিরঝিল–এর অ্যাম্ফিথিয়েটার শুক্রবার রাতে যেন পরিণত হয়েছিল এক আনন্দমুখর উৎসব মঞ্চে। আলো ঝলমলে পরিবেশে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন দলের আগমন ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাত ৯টার পর চ্যাম্পিয়ন দল মঞ্চে প্রবেশ করতেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। একে একে খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করা হলে তারা মঞ্চে উঠে আসেন। দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী ট্রফি হাতে মঞ্চে ওঠেন এবং ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে না পারা আশিকুর রহমান–এর হাতে সেই ট্রফি তুলে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
এই আয়োজনে দর্শকদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন প্রবাসী দুই ফুটবলার রোনান সুলিভান এবং ডেকলান সুলিভান। সমর্থকদের ডাক ও উচ্ছ্বাসে সাড়া দিয়ে দুই ভাই বারবার দর্শকদের অভিবাদন জানান। দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও এই আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ২০০৩ সালের সাফ ফাইনালে তিনিও টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছিলেন, যা তাকে এই মুহূর্তের সঙ্গে আবেগগতভাবে যুক্ত করেছে।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সরকারিভাবে আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হলেও সুনির্দিষ্ট অঙ্ক এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী জাতীয় ক্রীড়া দিবস–এর দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে।
এদিকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন–এর সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ১ লাখ এবং কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকেও খেলোয়াড়দের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা আসে।
অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দলের নিরলস পরিশ্রম ও ত্যাগ। তিনি এই ট্রফি দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।
অন্যদিকে, ইংরেজিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রোনান ও ডেকলান সুলিভান জানান, তারা বাংলা ভাষায় দক্ষ না হলেও বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় তারা অভিভূত।
দলের ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স এই তরুণ দলকে ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন। তার বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী এক দশকের মধ্যে এই দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে।
এছাড়া বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল–ও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই দলকে আন্তর্জাতিক বড় মঞ্চে দেখা যাবে।
ফুটবল উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পাইপলাইন শক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সাফল্যই প্রমাণ করে সঠিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্য থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতা অর্জন সম্ভব।