ইপেপার / প্রিন্ট
হাওর অঞ্চলের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তাসহ ১৬ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এবং নাগরিক উদ্যোগ।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাব-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক কাসমির রেজা।
সংগঠনগুলোর প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে— হাওরের নদী, খাল ও বিল পরিকল্পিতভাবে খনন করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা, অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা, ফসলরক্ষা বাঁধে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জলাবদ্ধতা কমাতে অকার্যকর স্লুইসগেট অপসারণ।
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণ, পুরোনো ঋণ পুনঃতফসিল, সরকারিভাবে ধান কেনা, ধান শুকানোর ড্রায়ার স্থাপন, কমিউনিটি মাড়াই কেন্দ্র নির্মাণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও দাবির তালিকায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে হাওর অঞ্চল থেকে। ফলে সেখানে ফসলহানি হলে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে।
অধ্যাপক কাসমির রেজা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে তিন দফা বৃষ্টিপাত ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৭৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি শিলাবৃষ্টিতে আরও প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে বিলম্ব এবং দুর্নীতির কারণে এবারের ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, হাওরের সংকটকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে হবে না; এটি নীতিগত, পরিকল্পনাগত ও ব্যবস্থাপনাগত সংকট। তাই স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও গবেষকদের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখন সময়ের দাবি।