মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে—এমন জাহাজ ধ্বংস করতেও পিছপা হবে না যুক্তরাষ্ট্র।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জেরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করলেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে ভারত।
ভারত জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আসে, যার বড় অংশই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। এছাড়া এলপিজি ও এলএনজির ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ভারতের নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং পরিবহন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে আমদানি ব্যয়, যা মুদ্রাস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শুধু জ্বালানি নয়, সার ও রাসায়নিক পণ্যের সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, যা কৃষি খাতকে চাপের মুখে ফেলতে পারে। পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলেও প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে এই অস্থিরতা শুধু ভারতের জন্য নয়, বরং চীন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া-র মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মার্কিন অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।