চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বিকল্প রপ্তানি পথ ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো মার্কিন সামরিক জাহাজ পার হয়নি এবং তারা সতর্ক করেছে যে কোনো যুদ্ধজাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে তা নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।
এ অবস্থায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থা জোরদার করছে। বিশেষ করে সৌদি আরব তাদের পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইন পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করেছে, যা হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করতে সক্ষম।
অন্যদিকে কাতার সমুদ্রপথে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন কাঠামো গড়ে উঠতে বাধ্য হবে।