ইরানের হরমুজ প্রণালি রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষ কমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৭ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী Scott Bessent ইরানের এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক উন্মত্ততা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা ইঙ্গিত করে যে ইরানের শাসকগোষ্ঠী অর্থনৈতিক সংকটে চরম চাপের মুখে রয়েছে।
Strait of Hormuz বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে ইরান। পরে দেশটি ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে হলে বিদেশি জাহাজগুলোকে টোল দিতে হবে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পতাকাবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ইরানের পার্লামেন্ট এ সংক্রান্ত আইন অনুমোদন করে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠন করা হয়।
তবে শুরু থেকেই ইরানের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী কোনো একক দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করেছে, কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান যদি ইরানের হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা, টোল প্রদান বা কোনো ধরনের সেবা গ্রহণ করে, তবে তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।