ইপেপার / প্রিন্ট
হরমুজ প্রণালিতে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে চলাচলের চেষ্টা করায় অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে এবং এর মধ্যে দুটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
বুধবার সকালে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সতর্কতা উপেক্ষা করে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করায় এসব জাহাজকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের বরাত অনুযায়ী, “ইউফোরিয়া” নামের একটি জাহাজ হামলার পর ইরান উপকূলের কাছে আটকা পড়ে। পাশাপাশি আইআরজিসির নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, “এমএসসি ফ্রান্সেসকা” ও “এপামিনোন্ডাস” নামের দুটি জাহাজকে জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলো ইরানের উপকূলের দিকে নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে আইআরজিসির গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়েছে। আক্রান্ত জাহাজটি গ্রিসের পতাকাবাহী “এপামিনোন্ডাস” বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইউকেএমটিও আরও জানায়, ঘটনাটি ওমানের উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ঘটে এবং এতে জাহাজটির ব্রিজে ক্ষয়ক্ষতি হয়।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাহাজগুলোকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল এবং নির্দেশ অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী “এমএসসি ফ্রান্সেসকা” জাহাজটি ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় ইরান উপকূলের কাছাকাছি হামলার শিকার হয় এবং এতে জাহাজের অভ্যন্তরে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনার পর হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটগুলোর একটি এই প্রণালি।