বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরান-কে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার না করলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা (পূর্বাঞ্চলীয় সময়)।” যদিও পোস্টে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি, পরে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন।
সেখানে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। তার ভাষায়, “তারা যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রই অবশিষ্ট থাকবে না।”
এর আগের দিনও একই ইস্যুতে আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যদি অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর-কে সংযুক্ত করেছে। প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত তেল ও তরল গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। এ কারণে একে “জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা” হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদেশগুলোর জাহাজ চলাচল করলে সেগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজ চলাচল কমে গেছে এবং বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নতুন সময়সীমা ও হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে নতুন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।