নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে শ্রমিকদের অবরোধের ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত থাকার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলার টিপুরদী এলাকায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বোনাসের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করলে পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে টিপুরদী এলাকার চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে একপর্যায়ে তারা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই লেনে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন। এতে মহাসড়কের শিমরাইল থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে মে মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান তারা। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী বেতন-ভাতা একসঙ্গে পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষ অপারগতা প্রকাশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভ অবরোধে রূপ নেয়।
মহাসড়কে আটকে পড়া যাত্রী ও চালকরা চরম দুর্ভোগের কথা জানান। তিশা পরিবহনের যাত্রী আরমান মিয়া বলেন, দুপুরে মদনপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই যানজটে আটকে আছি। দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি খুব ধীরে ধীরে চলছে, যাত্রা স্বাভাবিক হচ্ছে না।
অন্যদিকে ট্রাকচালক রফিক মিয়া বলেন, সকালে রাস্তা স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ অবরোধের কারণে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। এতে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম শেখ জানান, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
পরবর্তীতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা করে সমঝোতা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং দীর্ঘ যানজট কমতে শুরু করে।
এই ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি পুনরায় সৃষ্টি না হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক-মালিক উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।