গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করে জব্দ করা প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু নিলামে তুলতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। নিলাম কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, জব্দ করা বালুর সিংহভাগই ইতোমধ্যে লুটপাট হয়ে গেছে। ফলে নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে ফিরে আসতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের ১৪ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন নগর কাটগড়া এলাকার ঘাঘট নদীতে অভিযান চালিয়ে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু জব্দ করেন। পরে বালুগুলো বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ১২ এপ্রিল বালু নিলামে বিক্রির জন্য ১১ এপ্রিল এলাকায় মাইকিং করে প্রচারণা চালায়। সে অনুযায়ী রোববার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিয়ার রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিলাম কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঘটনাস্থলে যান।
কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, জব্দ করা বালুর বড় একটি অংশ আগেই লুটপাট হয়ে গেছে। অবশিষ্ট অল্প পরিমাণ বালু নিলামের উপযোগী না থাকায় নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে তারা ফিরে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের জিম্মায় থাকা বালু দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে ট্রাকে করে একটি প্রভাবশালী চক্র লুট করে নিয়ে গেছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, গত ২৮ মার্চ অবৈধভাবে বালু পরিবহনের সময় একটি ট্রাক্টর আটক করে পুলিশে দিলেও পরে তা ছেড়ে দেওয়া হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জব্দ করা বালু লুট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বালু আমার জিম্মায় ছিল, লুটপাট হয়েছে—এটা সত্য। তবে কারা করেছে তা সবারই জানা। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, “ইউএনওর নির্দেশে আমরা নিলাম কার্যক্রমে যাই, কিন্তু গিয়ে দেখি বালুর সিংহভাগ নেই। তাই নিলাম না করেই ফিরে আসতে হয়েছে।”
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, জব্দ করা বালু লুটপাটের ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, বালুগুলো চেয়ারম্যানের জিম্মায় থাকায় এ দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
এই ঘটনায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।