ইপেপার / প্রিন্ট
দেশে সুদনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ধাপে ধাপে সুদমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সুকুক (ইসলামী বন্ড) ইস্যুর পরিধি বাড়িয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথ তৈরি করা সম্ভব।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাজেট আলোচনার শুরুতে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এটিএম আজহার। একই সঙ্গে তিনি বিগত সরকারের আমলে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ডকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বলে দাবি করে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল সংস্কারের বিকল্প নেই।
সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, চলতি বাজেটে শুধু সুদ পরিশোধেই প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার সুকুক বন্ডের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করতে পারে বলে তিনি মত দেন। ২০২০ সালে চালু হওয়া সুকুক বন্ডকে জনপ্রিয় করা গেলে দেশ ধীরে ধীরে সুদমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগোতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য আজহার বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক এবং পি কে হালদার সংশ্লিষ্ট আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়াকে তিনি সৎ করদাতাদের প্রতি অবিচার বলে উল্লেখ করেন এবং এ সুবিধা বাতিলের দাবি জানান।
অর্থপাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত হবে।
এ সময় নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ)-এর অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।