সীমান্ত হত্যা রোধে সরকারের আরও শক্ত ও কার্যকর কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে হত্যার ঘটনা আবার বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ভারত সরকারের কাছে কঠোরভাবে জবাবদিহি চাইতে হবে।
রোববার রাজধানীতে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় এনসিপির প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারকে শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে জানতে হবে কেন সীমান্তে হত্যা বাড়ছে এবং এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী।”
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার মুখে “সবার আগে বাংলাদেশ” বললেও বাস্তবে সীমান্ত ইস্যুতে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। তার ভাষায়, “এটি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হয়ে থাকলে চলবে না, বাস্তব কর্মকাণ্ডেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর হামলা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আক্রান্তদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো রূপরেখা বা সময়সীমা দেওয়া হয়নি। তার দাবি, প্রশাসক পদে থেকে কেউ নির্বাচন করলে তা “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” নষ্ট করবে এবং নির্বাচন বিতর্কিত হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, “যারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা পদে থেকেই ভোট চাইছেন। এটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি দৃশ্যমান।
এছাড়া দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিকে “জাতীয় সংকট” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে হাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তের দাবি জানান তিনি।