ইপেপার / প্রিন্ট
সাধারণ দিনের তুলনায় আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে দেখা গেছে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামকে। সুনসান এই স্টেডিয়াম যেন হঠাৎ করেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, মাঠজুড়ে খুদে ক্রীড়াবিদদের মনোমুগ্ধকর ক্রীড়া প্রদর্শনী, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং সাংবাদিকদের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এক বিশেষ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এমন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম—তার নাম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
আজ বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিভা অন্বেষণমূলক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দেশের সব জেলা স্টেডিয়ামকে ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়, যেখানে অংশ নেয় হাজারো খুদে ক্রীড়াবিদ।
শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া Notun Kuri অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় এবার যাত্রা শুরু হলো নতুন এক রূপে—‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। তবে এবার মঞ্চের বদলে খেলার মাঠেই খুঁজে নেওয়া হবে ভবিষ্যতের তারকা খেলোয়াড়দের।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে আগত ৩২ জন জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ উপস্থিত ছিলেন। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি—বিভিন্ন খেলার প্রতিনিধিত্ব করা এই খেলোয়াড়রা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Aminul Haque বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা চালু করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে আরও সম্প্রসারিত করা হবে।
ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে থেকেই এই যাত্রা শুরু হয়েছে, যাতে দেশের সব অঞ্চলের খেলোয়াড়রা সমান সুযোগ পান।
এই প্রতিযোগিতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা মোট ৮টি ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে। প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে উপজেলা পর্যায় থেকে, এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক পর্ব শেষ হবে ১৩ থেকে ২২ মে’র মধ্যে।
দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ—এই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি পর্যায়ে প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি সার্বিক তদারকি করছে।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে নকআউট পদ্ধতি, দাবায় সুইস লিগ এবং অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে হিট ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।
চলতি রেজিস্ট্রেশনে সারা দেশ থেকে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন এবং মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। সর্বাধিক রেজিস্ট্রেশন এসেছে ঢাকা অঞ্চল থেকে এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে।
নতুন এই উদ্যোগকে ঘিরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।